শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকার কারণে অনেকেই পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তার অনুভূতি পান। এটি একটি পরিচিত সমস্যা যা অনেকের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। মাঝে মাঝে এই সমস্যাটি নিজে থেকেই সেরে যায়, কিন্তু ঘন ঘন এটি ঘটলে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন কেন এমন হয়?
বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন যে পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড় হওয়া কেবল রক্ত প্রবাহের একটি স্বাভাবিক সমস্যা, যা কিছু সময়ের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্ত প্রবাহের সমস্যার পাশাপাশি আরো কিছু কারণ থাকতে পারে যা পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতির জন্য দায়ী। অতএব, যদি এই সমস্যা ঘন ঘন ঘটে তবে এটি অবহেলা করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
চিকিৎসকরা বলছেন, পায়ে অস্থায়ী ঝিনঝিন বা অসাড়তা সাধারণত স্নায়ু এবং রক্ত প্রবাহের ওপর চাপ বৃদ্ধির কারণে ঘটে। দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে বসে থাকলে স্নায়ু ও রক্তনালিগুলোর ওপর চাপ বেড়ে যায়, যার ফলে অক্সিজেন এবং পুষ্টির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। তবে যদি এটি বারবার ঘটে, তাহলে ডায়াবেটিস, নিউরোপ্যাথি, ভিটামিন বি১২ ঘাটতি বা হার্নিয়েটেড ডিস্কের মতো সমস্যাও দায়ী হতে পারে। তাই এই সমস্যা অব্যাহত থাকলে ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
ঝিনঝিন বা অসাড়তার কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তার কিছু প্রধান কারণ রয়েছে:
১. রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন: দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে বসে থাকলে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়, যার ফলে পায়ে ঝিনঝিন দেখা দেয়।
২. স্নায়ু সংকোচন: ভুলভাবে পা বাঁকিয়ে বসলে বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে এবং ঝিনঝিন অনুভূতি হয়।
৩. ভিটামিন বি১২ ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি: শরীরে এই পুষ্টির ঘাটতি স্নায়ুর কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে অসাড়তা সৃষ্টি হয়।
৪. ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি: ডায়াবেটিস স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে পায়ে ঝিনঝিন ও অসাড়তা দেখা দেয়।
৫. সায়াটিকা ও হার্নিয়েটেড ডিস্ক: মেরুদণ্ড বা সায়াটিক স্নায়ুর সমস্যার কারণে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর পায়ে ঝিনঝিন হতে পারে।
কী করবেন
প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর উঠে দাঁড়ান এবং হালকা স্ট্রেচিং করুন। সঠিক ভঙ্গিতে বসুন এবং দীর্ঘক্ষণ পা বাঁকিয়ে বসে থাকবেন না। নিয়মিত যোগব্যায়াম এবং স্ট্রেচিং করলে স্নায়ুর কার্যক্ষমতা বাড়ে।
ভিটামিন বি১২, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরিপূরক গ্রহণ করতে পারেন।
যদি সমস্যা ঘন ঘন ঘটে এবং অন্য কোনো উপসর্গ যেমন ব্যথা বা দুর্বলতা থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।